টানা তিন ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেলো সিলেট। রবিবার খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ৬ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নেয় তারা। জয়ের নায়ক জিশান আলম। তার বিধ্বংসী ব্যাটে ৯ বল হাতে রেখেই ১৪৫ রানের লক্ষ্য ছোঁয় সিলেট। দিনের আরেক ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারিয়েছে বরিশাল। তামিমের ঝড়ো ব্যাটিং ম্লান করে জিতেছে ইফতি-সালমানরা।
সিলেটের আউটার গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন খুলনার অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় খুব বেশি রান তুলতে পারেনি তারা। ৭ উইকেটে ১৪৪ রান তুলে সিলেটকে ১৪৫ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। সর্বোচ্চ ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক সোহান।
সিলেটের পেসার এবাদত হোসেন ছিলেন কার্যকর, ২৮ রানে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট।
সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় সিলেট। দুই ওপেনার তৌফিক খান তুষার ও জিশান মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। তুষার ২৪ রানে আউট হলে জুটি ভাঙে তাদের। এরপর পিনাক ঘোষ (৬) ও অমিত হাসান (১১) দ্রুত বিদায় নিলেও বিস্ফোরক ব্যাটিং বন্ধ করেননি জিশান। ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। ৪৮ বলে ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারে সাজান নিজের ৭৩ রানের ইনিংসকে। শেষদিকে তোফায়েল আহমেদের ১২ বলে ২৩ রানের ইনিংস সিলেটকে সহজ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ৯ বল বাকি থাকতেই তারা তাদের প্রথম জয় তুলে নেয়।
দিনের আরেক ম্যাচে চট্টগ্রাম ও বরিশাল মুখোমুখি হয়েছিল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মূল মাঠে। ৭ মাস পর মাঠে ফিরে রানের মধ্যেই আছেন তামিম ইকবাল। রবিবার এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন বামহাতি ওপেনার। চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে এদিন বরিশালের বিপক্ষে আউট হয়েছেন ৯১ রানে।
তামিমের ইনিংসে ভর করে চট্টগ্রাম ৭ উইকেটে ১৮২ রান করে। মাত্র ৫৪ বলে ৭টি চার ও ৬টি চার ছিল দেশ সেরা এই ওপেনারের ইনিংসে। এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান জয় ২২ ও সাব্বির হোসেন ২১ রান করেন। মেহেদী হাসান নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।
১৮৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বরিশাল ইনিংসের শেষ বলে ৫ উইকেট জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ৩৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ভিত গড়ে দেন ওপেনার ইফতেখার হোসেন ইফতি। সেই ভিতে দাঁড়িয়ে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করেন সালমান। মাত্র ২৮ বলে ৫৩ রান করেন এই ব্যাটার। হাঁকিয়েছেন ৪টি ছক্কা ও ২টি চার। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন আহমেদ শরিফ।