• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

ভারতে ঝুলন্ত অবস্থায় বাংলাদেশি ছাত্রের লাশ উদ্ধার

রিপোর্টার নাম: / ৬ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
ভারতে ঝুলন্ত অবস্থায় বাংলাদেশি ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় বেটা-১ সেক্টরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক বাংলাদেশি ছাত্রের লাশ। ২২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এনআইইউ) পড়াশোনা করতেন।

নিহত ওই ছাত্রের নাম শাহরিয়ার। তিনি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা। গত রবিবার সন্ধ্যায় তাকে ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বাড়ির মালিক। এরপরই স্থানীয় বেটা-২ পুলিশ থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

বাড়ির মালিক জানান, রবিবার সন্ধ্যায় আমি জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে শাহরিয়ারকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এরপরে সাথে সাথেই থানায় খবর দেই।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার তারা খবর পায় সেক্টর বেটা-১ এর একটি ভাড়া নেওয়া বাসায় এক যুবক আত্মহত্যা করে মারা গেছে। এরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যদিও ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। এরপর বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে পুলিশ দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিমত, বিহারের মধুবনীর বাসিন্দা রূপা নামে এক নারীর সাথে সম্পর্ক ছিল শাহরিয়ারের। গত ১৬ নভেম্বর রূপাকে সাথে নিয়ে  শাহরিয়ার ওই বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য সেখানে আসে। এসময় তারা দুইজনই নিজেদেরকে বিবাহিত দম্পতি হিসেবে বাড়িওয়ালার কাছে পরিচয় দেন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রতি মাসে ৮,০০০ রুপিতে ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন। পরদিন ১৭ নভেম্বর তারা (শাহরিয়ার ও রূপা) উভয়েই ওই ঘরে এসে ওঠেন।

বাড়িওয়ালা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই নারী গত ২১ নভেম্বর ঘর থেকে বেরিয়ে যান কিন্তু এরপর আর ফিরে আসেননি। আর সেদিন থেকেই শাহরিয়ারের ফোনও বন্ধ ছিল। ফলে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এদিকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় রবিবার জানালা দিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই।

বাড়ির মালিক আরও জানান, তারা যখন ঘর ভাড়া নিতে আসে তখন তাদের উভয়কেই নববিবাহিত দম্পতির মতোই লাগছিল। আচমকা এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে কখনোই বুঝতে পারিনি।

এদিকে, তদন্তে নেবে সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত রুপা নামে ওই নারীর কোনও সন্ধান পায়নি পুলিশ। কারণ ঘটনার পর থেকে রূপার ফোনও বন্ধ পায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

স্টেশন হাউস অফিসার বিনোদ কুমার জানান, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়নি। মৃত্যুর কারণ কী তা নিশ্চিত করার জন্য ওই নারীর চলে যাওয়ার ফলে শাহরিয়ার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কিনা, শাহরিয়ারের ফোন কেন বন্ধ ছিল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও সমস্যা ছিল কিনা- এই সকল দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে মৃতের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ