• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
রাজধানীর ২নং ওয়ার্ডে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ‘জনতার কাউন্সিলর’ মীর ইমরান হোসেন মিথুনের ইফতার বিতরণ আলভীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন তিথি মার্কিন দূতাবাসে হামলা, ব্যক্তিগত বিমানে সৌদি ছাড়লেন রোনালদো কড়াইল বস্তিতে ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগান দিতে বাধ্য করবেন না: নাহিদ ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্রধান আসামি আলভী ও তিথি আলভী আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে: ইকরার বাবা অপরাজিত থেকেই সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকা, শেষ চারে প্রতিপক্ষ কে? ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের কড়া পদক্ষেপ

মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেলেন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া আফরোজা খানম রিতা

অনলাইন ডেক্স / ২৬ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেলেন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া আফরোজা খানম রিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির আফরোজা খানম রিতা। বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, এবার তিনি জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিসভাতেও।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের অঙ্ক বলছে, দেশের ইতিহাসে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী নেতাদের মধ্যে ব্যবধানের বিচারে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। তার আগে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।

এবারের নির্বাচনে সাত নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট ও ব্যবধানে জয় পেয়েছেন রিতা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩। ১৫১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতেই তিনি প্রথম হয়েছেন। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে বগুড়া-৬ আসনে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ২০০৮ সালেও বড় ব্যবধানে জেতেন তিনি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ইতিহাসের পাতায় এই দুজনের পরই রিতার নাম। এবার তাকে দেখা যাবে মন্ত্রীসভাতেও।

দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেয়েছেন রিতা। ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ড থেকে তাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব ধরে রাখা—এসবই রিতার পক্ষে কাজ করেছে। পাশাপাশি তার পারিবারিক ঐতিহ্যও বড় ভূমিকা রেখেছে।

আফরোজা খানমের বাবা প্রয়াত হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তিনি মুন্নু সিরামিককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি দেন। বাবার মৃত্যুর পর মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন রিতা। বর্তমানে তিনি মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান।

২০০১ সালে বাবার নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে কাউন্সিল ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। আফরোজা খানম বলেছেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার কারণেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। তিনি মানিকগঞ্জকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তারা ব্যবধান গড়ে জয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সেই তালিকায় স্রেফ জায়গাই করে নেননি, এবার মন্ত্রিপরিষদেও যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রিতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ