শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় এআইএমআইএম। দলের পক্ষে বলা হয়, রাজ্যের মুসলিম সমাজ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এবং তাদের জন্য কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। এই অবস্থায় প্রান্তিক মানুষের স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু আমজনতা উন্নয়ন পার্টি সেই আবেগকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে বলেই অভিযোগ করে মিম। দলের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিতর্কিত অবস্থানকে তারা সমর্থন করে না। তাই আসন্ন নির্বাচনে তারা একাই লড়বে এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীনভাবে রাজনীতির পথেই এগোবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের কথিত যোগসাজশের ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে বিজেপির সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কথা বলতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও হুমায়ুন কবীর এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, এটি রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যা খুব একটা গ্রহণযোগ্য হয়নি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এআইএমআইএমের সিদ্ধান্ত থেকেই সেই ইঙ্গিত মিলছে। কারণ এমনিতেই ওয়েইসির দলের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘বি টিম’ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া কোন দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তাদের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল।
জোট ভেঙে যাওয়ার ফলে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। শুরু থেকেই তিনি একাধিক বড় দলের সঙ্গে জোট করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কংগ্রেস, সিপিএম এবং আইএসএফকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের কথাও বলেছিলেন তিনি। এমনকি কোন দল কত আসন পাবে তাও ঘোষণা করে দেন।
কিন্তু পরে দেখা যায়, মূলধারার কোনও দলই তার সঙ্গে জোট করতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত এআইএমআইএম-এর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে নির্বাচনে নামেন তিনি। দুই দল মিলে ২০০-র বেশি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করে। ইতোমধ্যে একদফা যৌথ প্রচারও হয়ে গিয়েছিল। মুর্শিদাবাদের নওদা কেন্দ্র থেকে প্রচার শুরু করে একাধিক জনসভা করার পরিকল্পনাও ছিল। ওয়েইসি ও হুমায়ুন একসঙ্গে অন্তত ২০টি সভা করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। শুক্রবারও একটি যৌথ সভার কথা ছিল। কিন্তু নতুন এই বিতর্কে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। জোট ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রচারের কৌশল থেকে শুরু করে ভোটের সমীকরণ—সবকিছুই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে হুমায়ুনকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার ফলে শুধু একটি জোটই ভাঙল না, বরং রাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ের সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।