spot_img
শনিবার, মে ২৫, ২০২৪
শিরোনামঃ
||বই খাতা কলমের পরিবর্তে শৈলকূপায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছুটে চলেছে শিশু! ফেসবুকে ভাইরাল||নড়াইলের লোহাগড়া বাজারে দুইটি মোবাইল দোকানে চুরি||নড়াইলে ২৮ মে জেলা যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা||২৩ মে ইতনার গণহত্যা দিবস, ৫০/৬০ গ্রামবাসীকে গণহত্যা করা হয়||নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন||শ্রীমঙ্গলে বিষ খাইয়ে প্রতিবন্ধী সন্তান হত্যার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেফতার||শ্রীমঙ্গলে ৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ২||নড়াইলে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫ কেন্দ্রের ভোটে এগিয়ে থাকার পরেও আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে তুফান||শৈলকুপায় মটরসাইকেল মার্কায় ভোট দেওয়ার অপরাধে উভয় গ্রুপের ২০ বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট আহত ৭||৪০ বছরের ইউপি চেয়ারম্যান এবার উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত||শৈলকুপায় ইজি বাইকের ধাক্কায় গৃহবধুর মৃত্যু||মৌলভীবাজারে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা||বড়াইগ্রামে পানিতে ডুবে শিশু ও ট্রাক্টর চাপায় যুবক নিহত||শ্রীমঙ্গলে বিশ মেডিটেশন দিবস পালিত||বাঘায় তিন পদে ৮ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ
Homeভ্রমণপ্রাকৃতিক সাজে রাঙ্গাবালীর ‘হেয়ার আইল্যান্ড’

প্রাকৃতিক সাজে রাঙ্গাবালীর ‘হেয়ার আইল্যান্ড’

ডেস্ক রিপোর্ট

- Advertisement -spot_img

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ। প্রাকৃতিক সাজে সেজে আছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে। গুগল ম্যাপে যার নাম ‘হেয়ার আইল্যান্ড’। কারো কাছে ‘চরহেয়ার’, কারো কাছে ‘কলাগাছিয়া চর’ নামেও পরিচিত। দ্বীপটিতে আছে চোখজুড়ানো বালুকাময় দীর্ঘ সৈকত। সাগরের বিশাল পানিরাশি। তটরেখায় লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। সারি সারি ঝাউবন আর এর শোঁ শোঁ শব্দ। নয়নাভিরাম দ্বীপটি সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণের সাগর সান্নিধ্যের নৈসর্গিক ভূখণ্ড রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে নৌ-পথে ১৫ কিলোমিটার দূরে। যাতায়াতের মাধ্যম একমাত্র নৌ-পথ। ইঞ্জিন-চালিত কাঠের নৌকা কিংবা স্পিডবোটে সেখানে পর্যটকরা আসা-যাওয়া করে।

ওই পথে যেতে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী ধরে দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোলোই প্রথম দেখা মিলবে ঘন ম্যানগ্রোভ বন ‘চরতাপসি’। পূর্ব দিকে রয়েছে অপরূপ আরেকটি দ্বীপ, যার নাম ‘সোনারচর’। যেটি দেখতে অনেকটাই সুন্দরবনের মতো। সেখান থেকে পশ্চিম দিকে গেলেই দেখা মিলবে ডিমাকৃতিকর ‘হেয়ার আইল্যান্ড’। যেখানে ভ্রমণপিপাসুদের একবার পা পড়লেই বারবার আসতে মন চাইবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চার দিকে চোখজুড়ানো বালুকাময় সৈকত। লাল কাঁকড়ার দল। অতিথি পাখির কলকাকলি। সবুজ ঘন বনায়ন। এর মাঝে গাছের ঝরাপাতা এমনভাবে বিছিয়ে আছে দেখলে মনে হবে ঝাউ পাতার কার্পেট দিয়ে আপনাকে কেউ স্বাগত জানাচ্ছে। বনায়নের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে আরো চোখে পড়বে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার কোণকাড়। আর সেই ঝোপঝাড়ে দেখা মিলবে কাঁকে ঝাঁকে চেনা অচেনা পাখি।

দ্বীপটিতে কাকডাকা ভোরে সুর্যোদয়, আর সাঁকবেলায় সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ। এমন সব সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে এমনেতেই আকর্ষণীয়। সেই আকর্ষণ আরো বাড়াতে সম্প্রতি বেসরকারি উদ্যোগে ভ্রমণপিপাসুদের বিশ্রামের জন্য স্পট চেয়ার, রঙিন ছাতা, এবং গাছে গাছে ঝুলন্ত দোলনাও দেয়া হয়েছে হেয়ার আইল্যান্ডে। শুধু তাই নয়, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনও বসানো হয়েছে।

এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, ‘থাইল্যান্ডের ফিফি আইল্যান্ড কিংবা বালি দ্বীপের মতো করে সাজানো যায় এই হেয়ার দ্বীপকে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে হেয়ার আইল্যান্ড, সোনারচর, জাহাজমারা ও তুফানিয়া নামক চারটি পর্যটন স্পট নিয়ে পর্যটন জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’

পর্যটকরা মনে করেন, ‘পাশের পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র থাকায় এখানকার পর্যটন সম্ভাবনাও বেড়েছে কয়েকগুণ।’

জানা গেছে, ‘আন্তর্জাতিক পর্যটক আকৃষ্ট করতে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নে ‘পায়রা বন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এলাকায় বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

পর্যটকরা বলছেন, ‘এই প্রকল্প এলাকা থেকে রাঙ্গাবালীর পর্যটন স্পটগুলোতে আসা-যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এখানকার পর্যটন সম্ভাবনাও বিকাশিত হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সেক্ষেত্রে কুয়াকাটা এবং পায়রা বন্দর এলাকা থেকে নৌ-পথে রাঙ্গাবালী আসা-যাওয়ার জন্য সি-ট্রাক কিংবা শিখ চালু করা যেতে পারে।’

রাঙ্গাবালীর পর্যটন উন্নয়নে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ অঞ্চলটি পর্যটকবান্ধব। তাই পর্যটন উন্নয়নে এখানে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। সবাই এগিয়ে এলে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে। আমি মনে করি, সেক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও যদি এখানে হোটেল-মোটেল করে তাহলে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ ঘটবে বলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ দ্বীপগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পর্যটন জোন করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হলে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট হবে। তখন এখানে দেশী পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও ছুটে আসবে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাক্তার জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘রাঙ্গাবালীর চারটি সৈকত নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হলে দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছি। তাহলে এ অঞ্চলের মানুষও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।’

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মহিববুর রহমান জানান, ‘পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য চরহেয়ার (হোয়ার আইল্যান্ড), সোনারচর ও জাহাজমারায় তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যেগুলোকে আধুনিকমানের গেস্ট হাউজে রূপান্তরিত করা হবে। যাতে দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও এসে সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারেন এবং দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে পারেন।’

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
সর্বশেষ খবর
আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here