ইয়েমেনে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত ও আত্মসমর্পণ করা হুতি যোদ্ধাদের ওপর দিয়ে সাঁজোয়া যান চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সোমবার (০৫ অক্টোবর) বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছে হুতিদের কাছ থেকে কয়েকটি এলাকা পুনর্দখলের সময় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্স ভিডিওগুলো যাচাই করেছে। সাঁজোয়া যানগুলোর ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু হুতিকে লক্ষ্য করে যান চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ অস্ত্রধারী ছিলেন এবং কেউ হাঁটছিলেন বা দৌড়াচ্ছিলেন। তবে কয়েকজন নিরস্ত্র ছিলেন। তাদের কেউ বালুকাময় এলাকায় বসে, শুয়ে বা ঝুঁকে ছিলেন এবং আসা সাঁজোয়া যান এড়ানোর চেষ্টা করেননি।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাঁজোয়া যান এক নিরস্ত্র ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এরপর যানটি ফিরে এসে হাত ওপরে তোলা দুই ব্যক্তির ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। ওই দুজনের কারও হাতেও অস্ত্র ছিল না। ভিডিওতে গুলির শব্দও শোনা যায়। একপর্যায়ে একটি গুলিতে সাঁজোয়া যানের সামনের কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়।
হুতিরা এসব ভিডিওকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।
তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর প্রধান অংশ জায়ান্টস ব্রিগেডের মুখপাত্র আসিল আল সাকলাদি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তার দাবি, ওই এলাকায় থাকা হুতিরা আত্মসমর্পণ করেছে বলে বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। পরে তাদের কয়েকজন সরকারি বাহিনীর ওপর গুলি চালায়।
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ভিডিও ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস সরাসরি ভিডিও নিয়ে মন্তব্য না করলেও মঙ্গলবার সেনাদের বন্দিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, নৈতিক ও আইনগত নীতি মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছে মঙ্গলবারও লড়াই চলেছে। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে হুতিদের ঘেরাও করে রেখেছে এবং পূর্ব দিকে পাহাড়ি এলাকায়ও অগ্রসর হচ্ছে।
গত মাসে হুতিরা বাব আল মান্দাবের কাছে কয়েকটি এলাকা দখল করেছিল। এরপর ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য বাব আল মান্দাব গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়েছে।
এর আগে মানবাধিকার সংগঠনগুলো হুতিদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে। এর মধ্যে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, ত্রাণ আটকে দেওয়া, বন্দিদের ওপর নির্যাতন এবং শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। হুতিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র: রয়টার্স