• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
ভুয়া অডিও ও এআই জালিয়াতি: সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে বংশালে মানবিক সহায়তা: মো. আব্দুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগ। ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত ইয়াসিনের গ্রেপ্তারের দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ৩৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহলের অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ শাহাদাত হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাজনৈতিক প্রভাবে নিজ জেলায় কর্মরত চিকিৎসক দম্পত্তি। প্রতিহিংসা এবং স্বেচ্ছাসারিতার অভিযোগ। নিজের জীবন বাজি রেখে বিএনপির রাজনীতির পথচলায় ক্বারী — কে এই ক্বারী? গ্যাস নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিল সরকার, জারি হলো প্রজ্ঞাপন কুষ্টিয়ায় ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ ১০ মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ভুয়া অডিও ও এআই জালিয়াতি: সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার

অনলাইন ডেস্ক / ১৮ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
ভুয়া অডিও ও এআই জালিয়াতি: সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার

মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুলকে লক্ষ্য করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও খণ্ডিত অডিও ক্লিপ ব্যবহার করে যে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে, তা বর্তমানে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক নেতা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন।

আজিজুর রহমান টুটুল অভিযোগ করেন, ‘খবর মোহাম্মদপুর’ নামক একটি ফেসবুক পেজ দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। রাজু নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত এই পেজটি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে অসংখ্য পরিবার ধ্বংসের কারণ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

টুটুল জানান, রাজুর এই অপতৎপরতার শিকার হয়ে এলাকায় একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অনেক দম্পতির ডিভোর্স হয়েছে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভুয়া ছবি ও কন্টেন্ট তৈরি করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। স্থানীয়রা বছরের পর বছর এই চক্রের কাছে জিম্মি থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস করেনি। সাংবাদিক নেতা হিসেবে টুটুল প্রতিবাদ শুরু করলে তিনি নিজেই এই চক্রের প্রধান টার্গেটে পরিণত হন।

এই সাংবাদিক নেতা টুটুল এক ভিডিও বার্তয় দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে অডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সাজানো। রাজু বিভিন্ন সময়ে ধারণ করা অডিও ক্লিপ থেকে খণ্ডিত অংশগুলো কেটে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে জোড়া দিয়ে একটি বিতর্কিত কন্টেন্ট তৈরি করেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত শ্রদ্ধাবান। কিন্তু তারা কৌশলে আমার কথা থেকে কিছু শব্দ কেটে অন্য বাক্যের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করেছে।’ এমনকি মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে যে বক্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বিশ্বাস করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টুটুলের দাবি, রাজু চক্রটি বুঝতে পেরেছে যে তাদের অতীতের সাইবার অপরাধের ফরেনসিক রিপোর্ট তাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এই আতঙ্ক থেকেই তারা বর্তমানে মন্ত্রী এবং প্রশাসনের কাছে টুটুলকে ‘কালার’ বা ভুলভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক ও আইনি ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

নিজের সম্মান রক্ষায় ও ন্যায়বিচারের আশায় আজিজুর রহমান টুটুল মোহাম্মদপুর থানা থেকে শুরু করে ঢাকা ডিবি হেডকোয়ার্টার এবং সিআইডি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে একাধিক মামলা ও জিডি করেছেন। সর্বশেষ, তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি ভুয়া অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিক থানায় জিডি করেছেন এবং ডাকযোগে এর প্রতিবাদ ও নিজের প্রকৃত স্বাক্ষরের নমুনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত ১৭ বছর ধরে মাননীয় মন্ত্রীর ছায়াতলে থেকে রাজনীতি করছি। তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। একটি কুচক্রী মহল আমাকে মন্ত্রীর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন বেরিয়ে আসবেই।’

মোহাম্মদপুরবাসীর তথ্যমতে, অতীতে আওয়ামী লীগের মিছিলে রাজুকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। অথচ বর্তমানে সে কিছু বিপথগামী নেতার ছত্রছায়ায় নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। রাজুর বিরুদ্ধে অতীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে ভুয়া চিকিৎসার কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে সে আবারও একই ধারায় অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়, বরং এটি পুরো উপজেলার ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। মোহাম্মদপুরের সাধারণ মানুষ এখন চায় এই ডিজিটাল সন্ত্রাসী চক্রের মূলোৎপাটন হোক।

ভুক্তভোগি এই সাংবাদিক নেতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ওসি-র ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ডিবি পুলিশ ইতিমধ্যে ফরেনসিক রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করছে। আশা করি, খুব দ্রুতই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে।’ নিজের জীবন নিয়ে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হই, তবে আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু আমি কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না।’

সাংবাদিকতা পেশার সম্মান রক্ষা এবং মোহাম্মদপুরকে একটি শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আজিজুর রহমান টুটুল বলেন, ‘আমি সকল রাজনৈতিক নেতা ও সুধী সমাজকে অনুরোধ করব, তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্ত হবেন না। আমি আইন মেনে চলেছি এবং আইনের মাধ্যমেই এই ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়েছি।’

এই মুহূর্তে মোহাম্মদপুরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে, প্রশাসনের তদন্তে রাজু চক্রের এই ডিজিটাল জালিয়াতির স্বরূপ কত দ্রুত জাতির সামনে উন্মোচিত হয়। সত্য এবং ন্যায়ের জয় হবে—এই প্রত্যাশায় মোহাম্মদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তার আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ