বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তৃণমূল ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে আহ্বায়ক এবং তরুণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে আজ এই নতুন নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় দলকে সুসংগঠিত করা এবং সামনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কমিটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা দুই নেতা শীর্ষ দায়িত্বে আসায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহানগর উত্তরের আওতাধীন সকল থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঢেলে সাজাবেন। এতে দলের ত্যাগী, নির্যাতিত ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রূপরেখা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্বের পরিচিতি ও তাৎপর্য:
নবনিযুক্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা মহানগরীর রাজনীতিতে এক সুপরিচিত মুখ। স্থানীয় সরকার ও নগর রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষত ডিএনসিসির বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে আসছেন। অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ছাত্ররাজনীতি ও যুবরাজনীতি পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে ঢাকা-১৮ আসনভিত্তিক রাজনীতি ও রাজপথের নানা কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে এবং বিগত নির্বাচনে তিনি এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিল্টন ও জাহাঙ্গীরের এই যুগলবন্দী মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে।
তৃণমূলের উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন:
কমিটি ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর পল্লবী, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুরসহ উত্তর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উত্তর মহানগরের আওতাধীন পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এক যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব উপহার দিয়েছেন। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো আপসহীন নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হবে।”
মাসুদুর রহমান মাসুদ আরও উল্লেখ করেন, “পল্লবী থানাসহ পুরো মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীরা রাজপথের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রস্তুত রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে রাজপথের আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
সামনের চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পরিকল্পনা:
দলীয় নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রাজধানী ঢাকার রাজনীতি সব সময়ই দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে। বিগত সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সমন্বয়ের যে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছিল, নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। নবনিযুক্ত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাঁধে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে মহানগরের প্রতিটি স্তরে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং নিষ্ক্রিয় ইউনিটগুলোকে দ্রুত সক্রিয় করে তোলা।
কমিটি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “আমাদের ওপর দল যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমরা জীবনের বিনিময়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। মহানগর উত্তরকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইস্পাতকঠিন দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা কোনো বিভেদ চাই না। ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত কর্মীদের সমন্বয়ে উত্তর মহানগরের প্রতিটি অলিগলিতে বিএনপির ভিত আরও মজবুত করা হবে। রাজপথই আমাদের পরিচয়, আর সেই রাজপথেই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করব।”