রাজধানীর পল্লবীতে সাংবাদিক মো. মাসুদ জিয়ার বাসায় দিনে-দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও তার পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) মিরপুর সেকশন-১১ এর ব্লক-সি এলাকার ওই বাসায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ জিয়ার স্ত্রী পিংকি আক্তার জানান, তারা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। গত জানুয়ারি মাস থেকে বাড়িওয়ালা মোক্তার হোসেন বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু পরিবারের মেয়ের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকায় তারা কিছুটা সময়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
পিংকি আক্তার অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে তার স্বামী বাসায় না থাকার সুযোগ নিয়ে বাড়িওয়ালা মোক্তার হোসেন, পল্লবী থানা যুবদল নেতা রাজীব হোসেন পিন্টুর লোকজন এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি নান্নু মিয়াসহ ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, “তারা বাসায় ঢুকে তছনছ শুরু করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। ডাকাতরা আমার মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা ১৫ ভরি স্বর্ণের গহনা, নগদ ২ লাখ টাকা, আমার স্বামীর গণমাধ্যম ‘চ্যানেল মুসকান’-এর গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স ও সরকারি জরুরি নথিপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আমি খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা আমাকে এবং আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এর আগে গত মে মাসেও রাজীব হোসেন পিন্টু ও তার সহযোগীরা বাসায় এসে হুমকি দিয়ে যান। সে সময় মাসুদ জিয়ার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গত ৫ মে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিদিন পিন্টুর লোকজন তাদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন পিংকি আক্তার।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হামলাকারীদের সঙ্গে বাসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে থানায় মামলাও চলমান রয়েছে। মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার গতকাল শনিবার পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা এ ধরনের সন্ত্রাসীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সেজন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
যোগাযোগ করা হলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।