‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মাগুরার মহম্মদপুরে আয়োজিত স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া ভোকেসিং প্রোগ্রামে এক ঐতিহাসিক বক্তব্য দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তার এই বক্তব্য মহম্মদপুরসহ পুরো মাগুরা জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক ভাইরাল।
বক্তব্যের শুরুতে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী মহম্মদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ, সুধীজন, শিক্ষক, চাকরিজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মহম্মদপুর ও মাগুরা জেলাকে ঢেলে সাজাতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের পাশাপাশি সকল পর্যায়ের মানুষকে সততার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে মহম্মদপুর ও প্রেস ক্লাবকে ঘিরে যে ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা চলছিল, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী তার বক্তব্যে তা কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি এলাকায় যেকোনো ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা রুখতে নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কেউ যেন কারো পিছনে অন্যায়ভাবে লেগে না থাকে। দলের ভিতর কোনো উশৃংখলতা বরদাস্ত করা হবে না।” তার এই বক্তব্য মহম্মদপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে অনেকটা শীতল করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
নিতাই রায় চৌধুরী শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান এবং তাদের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক পেশার সাথে শিক্ষকরা যেন কোনো ভাবে না জরান, তারা তাদের পেশা নিয়ে সুষ্ঠ ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাংবাদিকতাকে জাতির বিবেক হিসেবে অভিহিত করে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তার ক্যাবিনেট মন্ত্রী থাকার সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকার আমলে যখন সারা দেশে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠত, তখনও তার বিরুদ্ধে দুই টাকার দুর্নীতির প্রমাণ কেউ করতে পারেনি। তার এই স্বচ্ছতা মহম্মদপুরের মানুষের কাছে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বয়সের ভারে নুয়ে না গিয়ে তিনি যেভাবে দেশ ও এলাকার জন্য কাজ করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তাতে মাগুরা জেলাবাসী নতুনভাবে আশান্বিত। মহম্মদপুরবাসীর মতে, নিতাই রায় চৌধুরী দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে সবার কাছে একজন অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি যেভাবে নির্ভীকভাবে সমস্যার সমাধান দিয়েছেন, তাতে তরুণ প্রজন্ম ও সচেতন সমাজ তাকে দেশের একটি সম্পদ হিসেবে দেখছেন।
এই আয়োজনে স্টার্টআপ এবং ইনোভেশন আইডিয়া উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি মহম্মদপুরকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত উপজেলায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার এই যুগোপযোগী বক্তব্য মহম্মদপুরবাসীর মনে এক নতুন আশা ও পরিবর্তনের প্রেরণা জুগিয়েছে।