দীর্ঘদিনের ইচ্ছা আজকে পূর্ণ হলো। ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল এখানে, আত্মশুদ্ধি আর আত্মার প্রশান্তির খোরাক পাওয়া যায় চরমোনাই মাহফিলে বলে জানিয়েছেন নতুন ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
যুগান্তরের পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাহফিলে আসলাম, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা আজকে পূর্ণ হলো। ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল এখানে, আত্মশুদ্ধি আর আত্মার প্রশান্তির খোরাক পাওয়া যায় এখানে।
শতবছর ধরে চলে আসা এই মজমা আর এই কাফেলা শুধু দ্বীন কায়েমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে; যুগে-যুগে, ক্রান্তিলগ্নে এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে রাজপথে লড়াই জারি রেখেছে, শাহাদাৎ বরণ করেছে। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুরুর দিকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ ৪ আগস্ট পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আয়োজিত গণমিছিল আমাদেরকে মাঠপর্যায়ে শক্তি জুগিয়েছে। সেই শক্তি হাসিনাকে বিদায় করতে অন্যতম নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছিল।
চরমোনাই মাহফিলে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, কাছ থেকে এখানকার বিদ্যমান পরিবেশ-পরিস্থিতি অবলোকন করা। দূর থেকে তো অনেক ধরনের আলাপ শুনি। আমি একটু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। পীর সাহেবের মধ্যে কোনো মেকি ভাব দেখি নাই, কোনো জড়তা নাই, সাবলীল আচরণ, সহজসরল স্বীকারোক্তি। এই দিকটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নেতৃত্বের কিছু সুস্পষ্ট গুণাবলি শিখলাম, এতো এতো ঝক্কিঝামেলা, ভিড়, ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ছিলেন খুবই স্বাভাবিক, সাবলীল! আগত সবার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছেন, এক এক করে খোঁজ খবর নিচ্ছেন, খেয়ালও রাখতেছেন। মিম্বারে বসে লাখ লাখ মানুষের ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ করতেছেন, মুহুর্তের মধ্যে মানুষকে হাসাচ্ছেন, কাঁদাচ্ছেন, খোদার প্রেমে উদ্বেলিত করতেছেন, অনুপ্রাণিত করতেছেন, ইহকাল-পরকালের জন্য তালিম দিয়ে যাচ্ছেন ..’