• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম :

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৬৭ ভিজিটর
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৫৬ জন আর নেপালে প্রাণ গেছে ১৪ জনের। দেশটিতে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দিতে পারে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ সময়ে সাধারণত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার।

রাজ্যটির ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি বাড়ি।

নেপালের ৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টি জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলা বড় ধরনের বন্যা বা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশটির প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।  এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।

তবে বর্তমানে ওই দুই এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বন্যার কারণে নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

অন্যদিকে, নেপালে পৃথক এক ঘটনায় তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন ওই কর্মীরা।

তবে তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ