যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা গণমাধ্যম ‘দেশের টিভি ইউএস’-এর বার্তা প্রধান মোহাম্মদ আখতার হোসেন সাদ্দামকে ফোনে ও সরাসরি বাসায় গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী হোয়াইট বাবু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শুধু ফোনেই নয়, হুমকির পরপরই সাংবাদিক সাদ্দামের বাসার সামনে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া চালিয়েছে হোয়াইট বাবুর নেতৃত্বাধীন চার সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পরিবার ও সহকর্মীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তথাকথিত ‘হোয়াইট বাবু’ ব্যক্তিগত মুঠোফোনে সাংবাদিক আখতার হোসেন সাদ্দামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও সরাসরি হত্যার হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াইট বাবুর নির্দেশে চার সদস্যের একটি সশস্ত্র ক্যাডার দল সাদ্দামের বাসার প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা সাদ্দামকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেয় এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, মহড়ায় অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে দুজন স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী আদনান ও রনি। তবে তাদের সঙ্গে থাকা বাকি দুজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ আখতার হোসেন সাদ্দাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “হোয়াইট বাবু হঠাৎ করেই ফোনে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমি হালকাভাবে নিলেও কিছুক্ষণ পর দেখি তার ক্যাডার বাহিনী আমার বাসার সামনে এসে হাজির হয়েছে। আদনান ও রনিসহ চারজন অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে। অতীতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আমার কণ্ঠ রোধ করতে পারেনি, অথচ আজ স্বাধীন দেশে আমাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে।”
সাংবাদিক আখতার হোসেন সাদ্দামের রয়েছে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার। সত্য প্রকাশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তিনি সবসময়ই আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত মন্ত্রী মজিবুল হকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
সেই সাহসী সাংবাদিকতার জেরে তাকে তৎকালীন সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়। তৎকালীন সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশজুড়ে আলোচিত দুটি পৃথক হত্যা মামলায় সাংবাদিক আখতার হোসেন সাদ্দামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে দেশের বিভিন্ন থানায় একের পর এক সাজানো চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দেয় তৎকালীন প্রশাসন। তবে সীমাহীন জুলুম, মামলা-হামলা সত্ত্বেও সত্য প্রকাশের পথ থেকে তিনি কখনো সরে যাননি।
এদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও স্বাধীন দেশের নতুন বাস্তবতায় একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বাসায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের এমন প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া ও হত্যার হুমকির ঘটনা দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা অবিলম্বে এই ঘটনার মূল হোতা হোয়াইট বাবুসহ চিহ্নিত ক্যাডার আদনান, রনি ও অজ্ঞাত বাকি দুই সন্ত্রাসীকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।