বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করে ফেসবুকে একটি স্যাটাস দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সেই স্ট্যাটাসে তিনি ইলিয়াস আলীর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তার রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিত্ব ও দলীয় আনুগত্যের কথা উল্লেখ করেন।
আসিফ আকবর লিখেছেন, ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠা ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী সৈনিক। তিনি ২০১২ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। সে সময় উপনির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ-বাহুবলে যান। সেখানে ইলিয়াস আলী নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন।
আসিফ জানান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। উঠান বৈঠক ও পথসভা অনেক জায়গায় জনসভায় রূপ নেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্মৃতিচারণে তিনি আরও বলেন, প্রচারণা শেষে ফেরার সময় প্রার্থী তাকে আরও একদিন থাকার অনুরোধ জানান। তবে দলীয় নির্দেশে তাকে অন্য জেলায় যেতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দলের প্রতি ইলিয়াস আলীর আনুগত্য ছিল নিঃশর্ত এবং দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়।
স্ট্যাটাসে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গেও দুঃখ প্রকাশ করেন আসিফ আকবর। তিনি বলেন, তার অন্তর্ধানের প্রকৃত ঘটনা জেনে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন।
সবশেষে তিনি ইলিয়াস আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইলিয়াস আলীকে নিয়ে আসিফ আকবরের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা ইলিয়াস আলী ভাই। ইলিয়াস ভাইয়ের গুম হওয়া এবং নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ইবলিসের দল লাশ ভাসিয়ে দেয় ধলেশ্বরীতে। অ্যাপস্টেইনের মত হাসিনা ফাইল ওপেন হচ্ছে ধীরে ধীরে।
১২ সালের ঘটনা। বেগম খালেদা জিয়া তাবলীগ জামাতের মোনাজাতে অংশ নিতে যান তুরাগ পাড়ে। ম্যাডাম আমাকে ফোনে নির্দেশ দিলেন- তুমি সকালেই যাও নবীগঞ্জ-বাহুবলে। উপ নির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়ার পক্ষে কাজ করো। সকাল সাতটায় রওনা দিয়ে পৌঁছে গেলাম জোহর বাদ। ইলিয়াস আলী ভাই ছিলেন নির্বাচন সমন্বয়কারী। প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান স্যার সহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। সুজাত সাহেবের ঘরে পৌঁছেই আমি ছাত্রদলের দু’জন আর জাসাস এর একজনকে নিয়ে প্রচারনায় চলে গেলাম। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বাজারে পথে প্রান্তরে নির্বাচনী কাজ করলাম। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বাবু গৌতম চক্রবর্তী, বাবু নিতাই রায় চৌধুরী ছিলেন নির্বাচনী কাজে, আমি ছিলাম অ্যাসাইনমেন্টে। আমরা উঠোন বৈঠক আর পথসভা গুলোকে দেখেছি জনসভা হয়ে যেতে।
রাত গভীর, ফেরত আসতে হবে। শেখ সুজাত মিয়া পথ আটকে বললেন- আপনি আরেকটা দিন থাকেন প্লীজ। আমি নিরুপায়, ম্যাডামের তৎকালীন প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ভাইকে ইলিয়াস ভাই ফোন দিলেন। ম্যাডাম বললেন আসিফের হবিগঞ্জে কাজ শেষ, সে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবে শ্যামলের ইলেকশনে। ইলিয়াস ভাই বললেন- ম্যাডামের অর্ডারে আসিফকে চলে যেতে হবে। ইলিয়াস ভাইয়ের আনুগত্য ছিল দল এবং দেশের প্রতি, কিছুটা সান্নিধ্য পেয়েছিলাম মানুষটার। তিনি ছিলেন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী সৈনিক। উনার অন্তর্ধানের আসল খবর শুনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। মহান আল্লাহ্ ইলিয়াস আলী ভাইয়ের আত্মাকে শান্তি দিন, তাঁর পরিবারকে এই শোক বইবার শক্তি দিন।