• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম :
স্ত্রীর জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল ২৪ বছর আগে স্বামীর অক্ষত লাশ ভয়াবহ দাবানলে সস্ত্রীক ফ্রান্স ছাড়লেন জর্জ ক্লুনি অতিরিক্ত বোলিংয়ের কারণেই কি নাহিদের ইনজুরি, যা বললেন নাফিস নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজ্যের মর্যাদার দাবি উঠলেই হামলা কেন, প্রশ্ন ফারুক আবদুল্লাহর ক্ষমার বার্তার পর মামলা নিয়ে প্রশ্ন, মোদিকে কটাক্ষ অভিজিতের ৫ মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক মোড় ‘জৈন্তাপুরে পাটওয়ারীর গাড়িবহরকে কড়া নিরাপত্তায় সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়’ — হামলার দাবি নাকচ ওসির বিমানখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে: মন্ত্রী ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী

রাজ্যের মর্যাদার দাবি উঠলেই হামলা কেন, প্রশ্ন ফারুক আবদুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৫ ভিজিটর
আপডেট : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
রাজ্যের মর্যাদার দাবি উঠলেই হামলা কেন, প্রশ্ন ফারুক আবদুল্লাহর

ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে ভিনরাজ্য থেকে যাওয়া দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, উপত্যকায় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হলেই রহস্যজনকভাবে এমন হামলার ঘটনা ঘটে।

এ কারণে তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় কুলগাম জেলার কেলাম এলাকার একটি ইটভাটায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

সেখানে ছত্তিশগড় থেকে কাজের জন্য যাওয়া শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন দীপক রত্নে ও ভূপিন্দর। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দীপক মারা যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে ভূপিন্দরও মারা যান।

ঘটনার পর দক্ষিণ কাশ্মীরসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উত্তর কাশ্মীরের বারামুলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং কেন চালিয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে তিনি হামলার সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, যখনই জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি সামনে আসে, তখনই এ ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কেবল কাকতালীয় বলে মনে হয় না। তাই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি।

ফারুক আবদুল্লাহর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকারের মন্ত্রী জাভেদ রানা এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর কুমার চৌধুরী। জাভেদ রানা বলেন, এমন কিছু শক্তি রয়েছে যারা কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক বা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল হোক, তা চায় না। তাই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সংস্থার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর কুমার চৌধুরী বলেন, যদি এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা থেকে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি উপত্যকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী অন্য কোনো গোপন শক্তি কাজ করছে কি না, সেটিও তদন্তে বের করে আনা প্রয়োজন।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের এসব বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলটির জম্মু ও কাশ্মীর শাখার নেতা এবং বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা সুনীল শর্মা বলেন, রাজ্যের মর্যাদার প্রশ্নের সঙ্গে সন্ত্রাসী হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণভাবে ভারতের সংসদের এখতিয়ার। এটিকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী যখন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়, তখন কিছু রাজনৈতিক নেতা তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ভুল বার্তা যায় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে কুলগামের হামলার পর উপত্যকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রশ্ন এখন আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কুলগামের এই হামলা শুধু নিরাপত্তা নিয়েই নয়, উপত্যকার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ